অনলাইন ডেস্ক 140

গল্প : ধূসর

মাঈন উদ্দিন আহমেদ : শেষ বিকেলে পাকস্থলীর দাবি; খাবার দাও, খাবার দাও। রীতিমতো উত্পাত, বিদ্রোহ। দুপুরে রান্না হয়েছিল পাবদা, চিংড়ি, ডাল, ভাত আর ফুলকপি ভাজি। খাওয়াদাওয়ায় ভীষণ বাছাবাছি ওর। পাবদা-চিংড়ি আর ভাজি নাকচ করে খিঁচড়ে যাওয়া মেজাজে কোনোরকমে খেলো ডাল-ভাত। মা থাকলে অন্তত ডিম পোচ জুটত। ওর মা কই! শেষবার দেখেছে কবে! সেসব ভেবে কাজ নেই। টইটম্বুর মানিব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে দেখে, গোধূলির আয়ু ফুরিয়ে এসেছে প্রায়। দালানের ফাঁক গলে আলো পড়ে পিচের আয়নায়। বৃষ্টি হয়েছিল খানেক আগে।

দশ নম্বর রোডের মোড় পেরিয়ে চলছে ও। ৯ নম্বর রোডের শেষ মাথা লক্ষ্য। হঠাৎ নজরে আসে দু'জন কিশোরী রাস্তার ওপারে ন্যাকড়া দিয়ে সাইকেলের সিট মুছছে। বারেবারে ও আড়ে আড়ে দেখছিল। সংকোচ। কেউ কিছু বলে যদি! আলুর চপ, বেগুনি, পিঁয়াজু আর পুরি। সব একটা করে। বিশ টাকার পার্সেল নিয়ে ফেরার পথেও দেখে মেয়ে দুটি আছে। তখন সংশয়ে সংশয়ে সন্ধ্যা নামার ভাও। ও সংশয়হীন আড়াআড়ি রাস্তা পার হয়। সাইকেলের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। আচমকা ওর আগমনে মেয়ে দুটি সামান্য সরে যায়। ও সাইকেলের হ্যান্ডেলে হাত রেখে বলে-
'তোমাদের সাইকেলটা বেশ সুন্দর!'
মেয়ে দুটি ভ্রু কুঁচকে একে অন্যের দিকে তাকায়। খানেক বাদে একজন বলল-
'আমাদের মতো দু'জন রূপবতী রেখে আপনার চোখে সাইকেলটা সুন্দর মনে হলো?'
সাইকেলের বেলে বাম হাত বোলাতে বোলাতে ও বলে-
'তোমার নাম?'
বিপরীতে কোনো উত্তর আসেনি। তাই ও একজনের দিকে আঙুল উঁচিয়ে আবার বলে-
'তোমার নাম জানতে চেয়েছি, সাইকেলের নয়।'
এবার বেশ চটপটে উত্তর এলো-
'আমি তমালিকা। আপনি?'

'একেকজন আমাকে একেক নামে ডাকে। পাখি ডাকে সকাল, কৃষক ডাকে ফসল আর আকাশ ডাকে ধূসর। তোমরা বরং আকাশের দেওয়া নামেই ডেকো।'
তমালিকা আবার বলে-
'আমার প্রথম প্রশ্নের জবাব দিন, ধূসর সাহেব।'
ধূসর আস্তে আস্তে আকাশের দিকে তাকায়। বৃষ্টি-পরবর্তী বাতাস হতে সামান্য অক্সিজেন গ্রহণ করে বলে-
'আজ পর্যন্ত আমি যতবার নিরুদ্দেশ হয়েছি, যতবার মরেছি, তার জন্য তোমাদের মতো কোনো না কোনো সুন্দরী দায়ী। এখন আমি সাবধান ভীষণ। গভীরভাবে তাকাই না মেয়েদের দিকে। তবুও বলতে পারি, তোমাদের মধ্যে মাধবিকা বেশি আকর্ষণীয়। ওর নাক বেশ ঢালু, চাহনি অতি মায়াবী। ওর বেশি সুন্দর লম্বা চুল, যেটা তুমি কেটে বিশ্রী করে রেখেছ।'
তমালিকা চুপসে গেল। সৌন্দর্যের দৌড়ে পরাজয় মেনে নিতে রাজি নয় কোনো মেয়ে। বিস্ময়জোড়া চোখে মাধবিকা জিজ্ঞেস করে-
'আশ্চর্য! আপনি আমার নাম জানলেন কী করে?'
'অর্ধেকটা তোমার কপালে লেখা আর বাকিটা অনুমান। পৃথিবীতে যার অনুমান যত বেশি শক্ত তার পথ তত সহজ। আমার অনুমান, আগামী সকালে ঝড় হবে। এন্তার বৃষ্টি বর্ষণে ধুয়ে যাবে পৃথিবীর জঞ্জাল। ভারী মনে তমালিকা একাই অপভোগ করবে সেসব। বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে সাইকেলটার সর্দি লাগার উপক্রম হবে। তোমার তখন হাওয়ার দেশে বাড়ি।'
'মানে?'
দ্রুত ও বিস্ময়ে মাধবিকার প্রশ্ন।
মাধবিকার প্রশ্ন ধূসর এড়িয়ে গেল। নতুন বক্তব্য শুরু করল-
'তোমরা বোধ হয় দশম শ্রেণি। বয়স সবে ষোলো। শাড়ি পরে বের হলে পারতে! গোধূলি বেশি খুশি হতো। আয়োজনটাও আরও জম্পেশ হতো।'
তমালিকা প্রশ্ন করল-
'কীসের আয়োজন?'
'নিরুদ্দেশের।'
'আপনার কথাবার্তার কিছুই বুঝি না।'
সামান্য থেমে তমালিকা আবার বলে-
'একটা কথা জিজ্ঞেস করি, কিছু মনে করবেন না! আপনি কি গরিব? কেমন ময়লা প্যান্ট! আর হলুদ গেঞ্জিটাও আপনার নামের মতো ধূসর হয়ে আছে।'
'আমাদের তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গরিব তুমি। অন্তরের দীনতা মরণেও নাহি ঘোচে। মানুষমাত্রই অভাবী, ভাবে এবং স্বভাবে। তুমি তেমন আজন্ম অভাবী।'

কথাগুলো বলার ফাঁকে ধূসর ওর মানিব্যাগ তমালিকার হাতে তুলে দেয়। তমালিকা আগ্রহ নিয়ে অভিযান চালায় মানিব্যাগের চিপাচাপায়।
এই ফাঁকে মাধবিকা নিচু স্বরে বলে-
'আপনার কথাগুলো কেমন আধ্যাত্মিক। অধিকাংশ না বুঝলেও আমি মুগ্ধ। আপনি কোথায় থাকেন? আগে তো দেখিনি!'
'তুমি ফেঁসে গেলে মাধবিকা; যদিও এমনটাই কথা ছিল। আমার অমোঘ ফাঁদ। মূলত আমি থাকি তোমাদের মতো যুবতীর চোখে আর অন্তরে। আপাতত আছি দশ নম্বর রোডের চৌদ্দ নম্বর হাউসের নিচতলায়। একেবারে নিচতলায় যেখানে আমার সঙ্গে আছে তেলাপোকা আর টিকটিকি।'
মানিব্যাগ থেকে উদ্ধারকৃত টাকা হাতে তমালিকা বলে-
'তা, নিচতলার বাসিন্দার কাছে দেখি ৯ হাজার টাকা! তবুও এই সস্তা খাবার কেন?'
'শোন, পৃথিবীটা পিছিয়ে আছে তোমাদের মতো অসংখ্য লোকের কারণে। বিশ টাকার পাকস্থলী সামলাতে দু'হাজার টাকা খসাও! অথচ পাশ ফিরে দেখ না, কত কত পাকস্থলী ক্ষুধার বিদ্রোহে দপায়। তোমাদের মগজে কারা বাস করে আমি জানি না; হয়তো স্তূপ স্তূপ বালু।'
কথাটা শেষ করে প্যাকেট খুলে পুরিটা তুলে দেয় এক পথশিশুর হাতে। আলুর চপ দিল মাধবিকাকে। নিজের জন্য পিঁয়াজু রেখে তমালিকাকে দিল বেগুনি। খানিকটা লজ্জায় গ্রাস করা মুখে তমালিকা বলে-
'আমাকে জিজ্ঞেস করলে আমি বেগুনিটাই চাইতাম।'
'সেটা তোমার মুখ দেখেই বুঝেছি। নিজেকে আয়ত্তে আনো, এখনই সময়। কেমন চেপে গেছে মুখ, দেখেছ? মাধবিকার মতো রক্ষণশীল হও।'
এবার লজ্জায় পুরোপুরি কাবু হয়ে যায় তমালিকা। মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। ধূসর জিজ্ঞেস করে মাধবিকাকে-
'আজকের সন্ধ্যা আমাদের হবে?'
'কোনদিকে যাবেন, বলুন?'

'পুবদিকে চলো, নদীর পাড়ে। চাঁদ আসার সময় এখন। যদিও আমার প্রিয় অমাবস্যা। জোছনাকে মুক্তি দিয়ে অমাবস্যার সাথে করি পরকীয়া। সাক্ষী থাকে নক্ষত্র। প্রধান সাক্ষী লুব্ধক। খজ্যোতি আচরণ করে শত্রুর মতন। আলোর মশাল হাতে দূর করতে চায় অমাবস্যার অমায়িক অবয়ব। আমি আঁধারের প্রতিরোধ তুলি। বিদ্রোহী। যুদ্ধ চলে অনন্তকাল। আমি ক্লান্ত প্রেমিক। ওই বুঝি জোছনা এলো, চলো আজ জোছনাকেই ভালোবাসি।'
ওরা তিনজন নদীর দিকে চলে। জোছনার আলো শহরে পড়তে শুরু করেছে কেবল। তমালিকা চুপসে গেছে একটু আগেই। মাধবিকা এমনিতেই চুপচাপ কিসিমের। হাঁটার পথে কোনো কারণ ছাড়াই ধূসর বলে-
'নাকের ফুটোয় ফুল ধরে যেদিন নিকোটিনের গন্ধ পেলাম; সেদিনই বুঝেছি সূর্যের আয়ু আর বেশিদিন নেই। সূর্যের করোটিকা ফাঁক করে দেখি ক্ষুধার্তের হাহাকার। নীরবতার বিকট কোলাহল। মহাবিশ্বের একমাত্র বোকা বস্তু সূর্য। নিজে জ্বলে অন্যের উপকার করছে।'
মাধবিকা ধূসরের মুখের দিকে তাকায়। বলে-
'কী বললেন! ঠিক বুঝলাম না।'
'আজকে হরতাল ছিল, জানো?'
'হ্যাঁ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিরসনে।'
'তাহলে একটি কবিতা শোনো-
গলির মোড়ে সাতটি কুকুর, ডানদিকে দুটি ভাগাড়;
মুখ বাড়ালেই পাচ্ছে সব, অভাব নেই ওদের আহার।
গলির মোড়ে কুড়িজন লোক, বামদিকে মস্ত বাজার
পকেট পেট সবই ফাঁকা তা-ও নাম জপছে খাজার।
শুয়োরের পাল মানচিত্র চোষে মানুষের ঘরে হাহাকার;
কুকুরগুলো দিব্বি আছে কেউ তো নেই মানুষ দেখার।
সুদিন ফেরাতে মঞ্চে বসাও শিল্পী, আজ গান হোক;
পাষাণ হটাও বাজার ফেরাও খেয়ে-পরে বাঁচুক লোক।

এত কথার বিপরীতে মাধবিকা শুধু বলে-
'আপনার কথা আমার মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছে।'
'তোমরা মাথা নিচু করে আছো বলেই দেশটা এভাবে নুয়ে পড়ছে।'
'আমি তাতে কী করতে পারি?'
'সেটা তুমি ভালো করেই জানো।'
এরপর চুপচাপ হেঁটে ওরা নদীর পাড়ে পৌঁছায়। নদী বলতে আধমরা খাল। অদূরে আতশনগর। ধুলোবালির ভিড় এড়িয়ে ওরা এক জায়গায় বসে। মাঝে ধূসর, দুই পাশে পৃথিবীর দুই আশ্চর্য প্রাণ। ধূসর জিজ্ঞেস করে তমালিকাকে-
'তোমার প্রিয় কোনটি- চাঁদ, সূর্য নাকি নক্ষত্র?'
'আমার প্রিয় চাঁদ।'

'কারণটা জিজ্ঞেস করলে কী বলবে, তা আমি জানি। অথচ চাঁদের সৌন্দর্যের নিজস্বতা কতটুকু! অন্যের থেকে ধার করে কতকাল বাহাদুরি! কিছুটা মেকআপময়ী সুন্দরীর মতো; তোমার মতো। চাঁদ তো পৃথিবীকে ছেড়ে ধীরে ধীরে চলে যাচ্ছে। পুরোপুরি গেলে কাকে প্রিয় বলবে, ভেবে রেখো।'
'তবুও জোছনার সৌন্দর্য আপনি উপেক্ষা করতে পারেন না।'
'যেমন অমাবস্যাকেও উপেক্ষা করতে পারি না।'
তমালিকা চুপ করে গেল। যেন পরাস্ত। ফের তমালিকার উদ্দেশ্যে ধূসর বলে-
'তোমাদের চোখ কত সুন্দর করে বানানো হয়েছে। অথচ ওই চমত্কার ভ্রুটাতে তোমরা রোজ রোজ কেন ব্লেড লাগাও আমি বুঝি না। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য খুঁজলে না, কেবল বুঝলে ঘষামাজা।'
তমালিকা আর কিছুই বলতে পারল না। মাধবিকা ভ্রুটাকে আড়াল করতে চাইল হাতের সাহায্যে। কিছুক্ষণ চুপ রইল সবাই। এরপর ধূসর বলল-
'এভাবে চুপ করে থাকার মানে হয় না। চুপ থাকবে বলে মানুষ পৃথিবীতে আসেনি। সত্যি বলতে, চুপ থাকতে পারলেই বেশি ভালো হতো। শান্ত নদীর নহর বইত দেশে দেশে। বিশ্বাস করো, দাঙ্গা-হাঙ্গামার পৃথিবীতে আসার কথা ছিল না আমার। কোনো এক ভিনগ্রহে ফুল হয়ে জন্মানোর কথা ছিল। অথচ ভুল করে তোমাদের পৃথিবীতে ঢুকে দেখি আমি মানুষ। আমি মানুষ নাকি তা-ও বুঝি না! মাধবিকা, আমায় একটু ছুঁয়ে দেখবে?'
হঠাৎ এ রকম আবদারে মাধবিকা অস্বস্তি বোধ করল। কাঁচুমাচু করতে লাগল। কিছুই বলল না। পরক্ষণেই ধূসর বলল-
'চলো আমরা দু'জন ঘুরে আসি। শুধু আমরা দু'জন। ধূসর রাজ্যে যাব, যাবে?'
'যাব। কিন্তু তমালিকা?'
'ও যদি রাজি থাকে তবে ওকে বাসায় দিয়ে আসি।'
তমালিকার সম্মতি পাওয়া গেল। একটা রিকশায় চড়ে তিনজন গিয়ে নামল ৯ নম্বর রোডের সেই সাইকেলটার কাছে। ভাড়াটা চুকাতে হলো তমালিকার। ধূসর বলল-
'সাইকেলটা আমরা নিয়ে যাচ্ছি। তুমি এটুকু হেঁটে যাও। আমরা আবার ফিরে আসব পৃথিবী ফুরানোর আগে। তুমি বাসায় একটু সামলে নিও।'
'আচ্ছা।'

বলে তমালিকা বাসার দিকে রওনা করলে ধূসর ওকে পিছু ডাকে। কাছে এলে বলে-
'তুমি যাকে প্রেমিক ভাবো, মানে টিটু ছেলেটা তেমন সুবিধার না। ওর থেকে নিরাপদে থেকো। যা কিছু দিয়ে ফেলেছ, তাতেই তোমার ক্ষতি হয়ে গেছে অনেক। ভালো থেকো।'
পরামর্শটুকু দিয়েই প্যাডেলে চাপ মারে ধূসর। দু'চাকার সাইকেল ছুটে চলে হাওয়ায় নিরুদ্দেশে।
ধূসরের শেষ কথায় দ্বিধায় ডুবে যায় তমালিকা। আজকে সন্ধ্যায় টিটুর সঙ্গে দেখা করার কথা। যাবে কি যাবে না- এ নিয়ে দোটানা। এরই মধ্যে টিটুর কল আসা শুরু করেছে। এতক্ষণ কোনো খবর ছিল না। তমালিকা স্থির করে টিটুর সঙ্গে আজ দেখা করবে না। ফোনটা বন্ধ করে ও বাসায় চলে যায়। মাধবিকার ব্যাপারে বাসায় জানতে চাইলে ও বলে-
'সাইকেল নিয়ে বিনীতার বাসায় নোটস আনতে গেছে। চিন্তা নেই চলে আসবে। আমি যাইনি, শরীর ভালো না তাই।'
ওরা সম্পর্কে চাচাতো বোন। বাসায় ফিরে তমালিকা ভীষণ ক্লান্ত বোধ করে। দৈহিক ও মৈনিক উভয়ই। বিছানায় গা এলাতেই ঘুমিয়ে পড়ে।
কয়েক ঘণ্টা পর ঘুম ভাঙে হইহুল্লোড়ে। বড় কাকা প্রশ্ন করেন-
'কীরে, রাত ১১টা বাজতে চলল, মাধবিকা তো ফিরল না। একটু আগে বিনীতারে কল দিলাম; ওর কাছে তো যায় নাই।'
চোখ কচলাতে কচলাতে তমালিকা নির্ভার মুখে বলে-
'দাঁড়ান, মাধবিকাকে কল করি।'
উত্তেজিত হয়ে মাধবিকার বাবা বলেন-
'ওর নম্বর তো বন্ধ বলতেছে অনেকক্ষণ যাবৎ। এজন্যই তো চিন্তা।'

এবার শক্ত হয়ে বসে তমালিকা। ধীরে ধীরে সত্যটা বলে দেয়। মাধবিকার মায়ের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে বাসা। তমালিকার বাবা জিজ্ঞেস করে-
'ছেলেটার অ্যাড্রেস আছে?'
'হ্যাঁ, আছে। বলেছিল একবার। আমার কাছে ছেলেটার ছবিও আছে। ওর মানিব্যাগ থেকে পেয়েছি। দাঁড়াও দিচ্ছি।'

ছবি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন মাধবিকা ও তমালিকার বাবা শরদিন্দু ও হরবিন্দু।
এলাকাজুড়ে হুলস্থুল কাণ্ড। দশ নম্বর রোডের চৌদ্দ নম্বর হাউসের নিচতলায় কোনো বাসা নেই। পুরোটাই গ্যারেজ। দারোয়ানকে ছবি দেখানো হলেও সে চিনতে পারেনি। শরদিন্দু হালদার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। একে একে দশ নম্বর রোডের প্রায় সবাইকে দেখানো হলো ছবি। কেউই চিনল না। কেমন আশ্চর্য মুখ! এর আগে কেউ দেখেনি কোনো দিন। কৃষ্ণপুর থানায় ডায়েরি করা হলো। পত্রিকায় নিউজ পাঠানো হলো। এখন শুধু অপেক্ষা; চলমান ঘটনা তমালিকার কাছে অবিশ্বাস্য লাগছে। ধূসর তবে কে! ভেবে কূলকিনারা পায় না। সবার নির্ঘুম কেটে যায় রাত।
ভোর আসে। আবাক হয় তমালিকা। ধূসরের কথামতো ভোর হতে না হতেই ঝড়ের উপদ্রব। কিছুক্ষণ পরে শুরু হয় টানা বৃষ্টি। জানালার কাছে যেতেই তমালিকার নজর আটকে যায়। সাইকেল! সাইকেল! এক দৌড়ে রাস্তায় নামে তমালিকা। সাইকেলটাই আছে শুধু। আর কেউ নেই।

এই বিভাগের আরও খবর

মহান স্বাধীনতা দিবস
মহান স্বাধীনতা দিবস

মহান স্বাধীনতা দিবস

আমি মুজিব কন‍্যা বলছি
আমি মুজিব কন‍্যা বলছি

আমি মুজিব কন‍্যা বলছি

গল্প : বিশ্বাস আর আস্থায় নতুন জীবন
গল্প : বিশ্বাস আর আস্থায় নতুন জীবন

গল্প : বিশ্বাস আর আস্থায় নতুন জীবন

টিনএজের খেয়াল
টিনএজের খেয়াল

টিনএজের খেয়াল

‘ছোটদের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ’-এর মোড়ক উন্মোচনে শাজাহান খান
‘ছোটদের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ’-এর মোড়ক উন্মোচনে শাজাহান খান

‘ছোটদের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ’-এর মোড়ক উন্মোচনে শাজাহান খান

গল্প : ধূসর
গল্প : ধূসর

গল্প : ধূসর

মমতাজউদদীন নাট্যকার পুরস্কার পাচ্ছেন রুমা মোদক
মমতাজউদদীন নাট্যকার পুরস্কার পাচ্ছেন রুমা মোদক

মমতাজউদদীন নাট্যকার পুরস্কার পাচ্ছেন রুমা মোদক

close