অনলাইন ডেস্ক 7

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এবার মধ্যপ্রাচ্যের মেঘ চুরির অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের মেঘ চুরির অভিযোগ উঠছে। ইরাকের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল-খাইকানি অভিযোগ করেছেন, প্রতিবেশী ইরান ও তুরস্কও মনে করে যুক্তরাষ্ট্র বিমান ব্যবহার করে মেঘ ‘ভেঙে ফেলা’ এবং ‘চুরি’ করছে। তবে ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ব্যস্ত হয়ে পড়ায় তারা আর মেঘ সরাতে পারছে না, যার ফলে ইরাকে দীর্ঘ খরা কাটিয়ে আবার বৃষ্টির দেখা মিলছে।

গত সপ্তাহে ইরাকি সংবাদমাধ্যম আল-রাশিদ টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক দিন ও মাসগুলোতে ইরাকে আবার বৃষ্টি ফিরেছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ইরানের যুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তারা আর কৃত্রিমভাবে মেঘ সরাতে পারছে না’।

 

সম্প্রতি বিবিসির সঙ্গে কথা বলার সময় আল-খাইকানি আবারও দাবি করেন, ‘বায়ুমণ্ডল পরিবর্তনের অস্ত্র’ ব্যবহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে ইরাকে খরা তৈরি করা হয়েছে। তবে তার দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি।

এদিকে এই ইরাকি এমপির এ বক্তব্য সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা দাবির সঙ্গেও মিল রয়েছে।

 

তুরস্কে কিছু ব্যবহারকারী ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সেখানে হওয়া অতিবৃষ্টির সম্পর্ক খুঁজছেন। তুরস্কের পরিবেশ, নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬৬ বছরের মধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছিল।

১০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে এমন একটি পোস্টে একজন দাবি করেন, যুদ্ধের কারণে আকাশপথ বন্ধ থাকায় যুক্তরাষ্ট্র আর ‘মেঘ চুরি’ করতে পারছে না, তাই তুরস্কে ‘অবিরাম’ বৃষ্টি হচ্ছে।

 

ইরানের অনেক নাগরিকও দাবি করেছেন, ইরানে চলমান খরা, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল, তা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের হামলার পর ‘মাত্র পাঁচ দিনে শেষ হয়ে গেছে’।

কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের হাতে এখনও এমন কোনো প্রযুক্তি নেই যার মাধ্যমে ‘মেঘ চুরি’ করা সম্ভব।

 

ইরাকের আবহাওয়া অধিদপ্তরের মুখপাত্র আমের আল-জাবিরি এই দাবিকে ‘বৈজ্ঞানিক বা যুক্তিসঙ্গত নয়’ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালে ইরাকে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ার পূর্বাভাস গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসেই দেওয়া হয়েছিল, যা যুদ্ধ শুরুর অনেক আগের ঘটনা।

এছাড়াও জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি, পরিবেশ ও স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক কাবে মাদানি বলেন, ‘এর পেছনে অনেকটা দায় মানুষের অবিশ্বাস, জলচক্র ও জলবায়ু ব্যবস্থার সম্পর্কে অজ্ঞতা।’

 

এই মেঘ চুরির দাবি জানানো ব্যক্তিরা বিশ্বাস করেন, সমস্যার মূল হলো ‘ক্লাউড সিডিং’ নামের একটি প্রক্রিয়া, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা দাবি করেন, এক জায়গায় ক্লাউড সিডিং করলে পাশের এলাকায় বৃষ্টির ঘাটতি তৈরি হয়।

ক্লাউড সিডিং হলো একটি আবহাওয়া পরিবর্তন পদ্ধতি, যেখানে বিদ্যমান মেঘকে প্রভাবিত করে বৃষ্টি বা তুষারপাত বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। এটি সাধারণত বিমান ব্যবহার করে মেঘের মধ্যে ছোট ছোট কণা, যেমন সিলভার আয়োডাইড ছড়িয়ে দিয়ে করা হয়, যাতে পানির ফোঁটা তৈরি হয়ে বৃষ্টি নামতে সাহায্য করে।

 

এই পদ্ধতি যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অনেক দেশে ব্যবহৃত হলেও বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর প্রভাব খুবই সীমিত। এটি বিদ্যমান মেঘ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত বাড়াতে পারে। গত বছর, ইরানে যখন বৃষ্টিপাত রেকর্ড পরিমাণ কমে যায় এবং জলাধারগুলো প্রায় শুকিয়ে যায়, তখন কর্তৃপক্ষ উর্মিয়া হ্রদ এলাকায় ক্লাউড সিডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়।

 

আবুধাবির খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডায়ানা ফ্রান্সিস বলেন, “এটিকে এমনভাবে ভাবুন যে এটি কেবল আগে থেকেই থাকা একটি মেঘকে একটু ‘ধাক্কা’ দেয়, পুরো আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে না।”

 

ওয়াইওমিং বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া বিজ্ঞানী ড. জেফ ফ্রেঞ্চ বলেন, "এ ধরনের প্রভাব থাকলেও তা খুবই ক্ষুদ্র এবং স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের ওঠানামার মধ্যেই হারিয়ে যায়।"

 

বিজ্ঞানীরা আরও বলছেন, আবহাওয়ার গতিপথ বা তীব্রতা সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করার মতো কোনো প্রযুক্তি আসলে নেই। বরং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই মধ্যপ্রাচ্যে চরম আবহাওয়া আরও বেশি ও তীব্র হচ্ছে। মানুষের কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে কয়লা, গ্যাস ও তেল পোড়ানোর মত ঘটনা পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর

ট্রাম্পের ‘মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন যাচাইয়ে স্থগিতাদেশ’ অবৈধ : আদালত
ট্রাম্পের ‘মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন যাচাইয়ে স্থগিতাদেশ’ অবৈধ : আদালত

ট্রাম্পের ‘মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন যাচাইয়ে স্থগিতাদেশ’ অবৈধ : আদালত

নোবেল শান্তি পুরস্কারের দৌড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প, সমর্থন ইসরায়েল ও পাকিস্তানের
নোবেল শান্তি পুরস্কারের দৌড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প, সমর্থন ইসরায়েল ও পাকিস্তানের

নোবেল শান্তি পুরস্কারের দৌড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প, সমর্থন ইসরায়েল ও পাকিস্তানের

দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে সোমালিয়া—সতর্ক করল জাতিসংঘ
দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে সোমালিয়া—সতর্ক করল জাতিসংঘ

দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে সোমালিয়া—সতর্ক করল জাতিসংঘ

হরমুজ খুলে দিতে আন্তর্জাতিক জোটের জন্যে যুক্তরাষ্ট্রের হাহাকার
হরমুজ খুলে দিতে আন্তর্জাতিক জোটের জন্যে যুক্তরাষ্ট্রের হাহাকার

হরমুজ খুলে দিতে আন্তর্জাতিক জোটের জন্যে যুক্তরাষ্ট্রের হাহাকার

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইসরায়েলে একদিনে এলো ৬ হাজার ৫০০ টন সামরিক সরঞ্জাম
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইসরায়েলে একদিনে এলো ৬ হাজার ৫০০ টন সামরিক সরঞ্জাম

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইসরায়েলে একদিনে এলো ৬ হাজার ৫০০ টন সামরিক সরঞ্জাম

বিশ্বজুড়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে
বিশ্বজুড়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে

বিশ্বজুড়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে

বেঙ্গালুরুতে হাসপাতালের দেয়াল ধস: নিহত বেড়ে ৭, আহত কয়েকজন
বেঙ্গালুরুতে হাসপাতালের দেয়াল ধস: নিহত বেড়ে ৭, আহত কয়েকজন

বেঙ্গালুরুতে হাসপাতালের দেয়াল ধস: নিহত বেড়ে ৭, আহত কয়েকজন

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এবার মধ্যপ্রাচ্যের মেঘ চুরির অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এবার মধ্যপ্রাচ্যের মেঘ চুরির অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এবার মধ্যপ্রাচ্যের মেঘ চুরির অভিযোগ

জনগণকে ‘বাকিতে কেনাকাটার’ সুযোগ দিচ্ছে ইরান
জনগণকে ‘বাকিতে কেনাকাটার’ সুযোগ দিচ্ছে ইরান

জনগণকে ‘বাকিতে কেনাকাটার’ সুযোগ দিচ্ছে ইরান

রেকর্ড পরিমাণে কমেছে বিমানের জ্বালানি সরবরাহ
রেকর্ড পরিমাণে কমেছে বিমানের জ্বালানি সরবরাহ

রেকর্ড পরিমাণে কমেছে বিমানের জ্বালানি সরবরাহ

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন: বুথফেরত জরিপে এগিয়ে বিজেপি
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন: বুথফেরত জরিপে এগিয়ে বিজেপি

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন: বুথফেরত জরিপে এগিয়ে বিজেপি

ডলারের বাজারে ইয়েনের বড় প্রভাব
ডলারের বাজারে ইয়েনের বড় প্রভাব

ডলারের বাজারে ইয়েনের বড় প্রভাব

close