অনলাইন ডেস্ক 166
"মানবিক করিডর" না "ভূমি দখলের রুট"?
সৈয়দ ইউসুফ তাকি
বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জাতিসংঘের ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম-আরাকান সীমান্তে একটি তথাকথিত “মানবিক করিডর” চালু করেছে, যেখানে সাধারণ জনগণ, রাজনৈতিক দল, এমনকি সংসদীয় আলোচনার বাইরে থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে উপেক্ষা করে নেয়া এমন সিদ্ধান্ত কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা ইতিহাস ঘেঁটে দেখলেই বোঝা যায়।
মানবিক করিডর — অর্থ কী?
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো মানবিক করিডরের সংজ্ঞা দেয় একটি নিরাপদ রুট হিসেবে, যার মাধ্যমে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে খাবার, ওষুধ, এবং ত্রাণ সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে বহুবার দেখা গেছে, এই করিডর ব্যবহার করা হয়:
বিদেশি ইন্টেলিজেন্স এজেন্টদের প্রবেশদ্বার হিসেবে,
ভূ-রাজনৈতিক ম্যাপিং ও গোয়েন্দা নজরদারির প্ল্যাটফর্ম হিসেবে,
অস্ত্র, ড্রোন এবং সামরিক সরঞ্জাম পাচারের গোপন পথ হিসেবে,
এবং শেষত: অঞ্চলটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সূক্ষ্ম কৌশল হিসেবে।
বাস্তব উদাহরণ: করিডরের আড়ালে কী হয়েছিল?
১. সিরিয়া: "মানবিক করিডর" খোলা হয়েছিল নাগরিক সহায়তার নামে। বাস্তবে সেই রুট ব্যবহার করে অস্ত্র, রিক্রুট এবং প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ঢুকেছে। ISIS এবং আল-নুসরা এই করিডর থেকেই গড়ে ওঠে।
২. ইরাক: “No-Fly Zone” নামে চালু হয় করিডর। পরে সেই অঞ্চলেই গড়ে ওঠে মার্কিন ঘাঁটি। করিডর ছিল সাদ্দামের পতনের সূচনা।
৩. লিবিয়া: “Protection Corridor” নাম দিয়ে বিদ্রোহীদের সহায়তা দেওয়া হয়। ফলাফল — NATO সেখানে ঢুকে পুরো দেশ ধ্বংস করে দেয়।
৪. গাজা: Rafah করিডর দিয়ে সাহায্য পাঠানো হয়। পরে জানা যায়, সেই করিডর দিয়ে মোসাদের এজেন্ট প্রবেশ করে এবং গোপন গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে।
৫. আফগানিস্তান: "ত্রাণ সহায়তা"র আড়ালে CIA করিডর তৈরি করে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে। সেখান থেকেই পরিচালিত হয় ড্রোন হামলা ও গুপ্ত হত্যা।
_1746410678.png)
তাহলে বাংলাদেশে কী হতে পারে?
বাংলাদেশ-আরাকান করিডর আজ "মানবতার খাতিরে" খোলা হলো। কিন্তু আগামী দিনে যদি আমরা দেখি: সেখানে এনজিও’র নামে সামরিক ম্যাপিং শুরু হয়, নজরদারি ড্রোন চলতে শুরু করে, আন্তর্জাতিক ধর্মীয় নেতা এসে ‘ইন্টারফেইথ’ ভাষণ দেয় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে, তারপর অঞ্চলটিকে “Safe Zone” ঘোষণা দিয়ে আন্তর্জাতিকীকরণ করার দাবি উঠে — তবে আমাদের আর কিছু করার থাকবে না।
সমাপ্তি নয়, সতর্কবার্তা
এই ধরনের করিডর কখনোই নিরপেক্ষ নয়। এটি একটি "ম্যাটিকুলাসলি ডিজাইনড" গেইমপ্ল্যান, যার মাধ্যমে ধাপে ধাপে একটি অঞ্চলকে ভেতর থেকে দুর্বল করে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের জায়গা তৈরি করা হয়।
আমাদের চোখ বর্ডারে রাখতে হবে, নাটকীয় মিডিয়া কনটেন্টে নয়। যে কজন তথাকথিত “সমন্বয়ক” দায়িত্বে আছেন, তাঁদের ভূমিকা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতা যাচাই করার সময় এখনই।
বাংলাদেশ কারো পরীক্ষাগার নয়। এই দেশ আমাদের সকলের — স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্বও আমাদের।
-সৈয়দ ইউসুফ তাকি
মন্ট্রিয়ল, কানাডা
এই বিভাগের আরও খবর
"মানবিক করিডর" না "ভূমি দখলের রুট"?
"মানবিক করিডর" না "ভূমি দখলের রুট"?
২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহ: ভারতীয় সামরিক হস্তক্ষেপের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ
২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহ: ভারতীয় সামরিক হস্তক্ষেপের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ
‘বেনজীর’ যাদের সৃষ্টি, তারা কি দায় এড়াতে পারেন
‘বেনজীর’ যাদের সৃষ্টি, তারা কি দায় এড়াতে পারেন
বাবা চলে যাবার আজ তিন বছর
বাবা চলে যাবার আজ তিন বছর
তারুণ্যের অহংকার সৈয়দ মেহেদী রাসেল
তারুণ্যের অহংকার সৈয়দ মেহেদী রাসেল
রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি
রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি
ধনী-গরিবের বৈষম্য কমিয়ে আনা জরুরি
ধনী-গরিবের বৈষম্য কমিয়ে আনা জরুরি
শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান
শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান
বাজারে ভোক্তাদের নাভিশ্বাস
বাজারে ভোক্তাদের নাভিশ্বাস
সর্বাদিক পঠিত
Pupoler Category

