অনলাইন ডেস্ক 96

নির্বাচন, গণতন্ত্র ও একটি সুপরিকল্পিত বিভ্রান্তির চিত্র

সৈয়দ ইউসুফ তাকি

.
.
.
গত এক দশক ধরে একটি শ্রেণি নিরন্তর অভিযোগ করে এসেছে যে শেখ হাসিনার অধীনে বাংলাদেশে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি—কারচুপি, প্রশাসনিক প্রভাব ও ভোটাধিকার হরণের অভিযোগ তারা প্রতিনিয়ত তুলে ধরেছে। অথচ আজ, সেই একই শ্রেণির অনেকেই নির্বাচন ঘিরে যখন আলোচনা বা আয়োজন সামনে আসে, তখন কৌতুক, ট্রল ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের আশ্রয় নেয়। তারা বলে, “নির্বাচন করে কী লাভ? আবার তো শেখ হাসিনাই আসবে।”
এই বক্তব্যের অন্তর্নিহিত দ্বিচারিতা চোখে পড়ার মতো। এরা শেখ হাসিনার সময় নির্বাচন চায়, কিন্তু শেখ হাসিনার পর নির্বাচন চায় না। এই সুর একটি বৃহত্তর উদ্দেশ্যের অংশ—যা আসলে গণতন্ত্র বা ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার চিন্তা নয়, বরং ক্ষমতা ও প্রতিশোধের রাজনীতির প্রতিফলন।
 
এই বিভক্ত শ্রেণি মূলত দুই ভাগে বিভক্ত:
১. উগ্র ধর্মীয়-রাজনৈতিক গোষ্ঠী
এদের লক্ষ্য ১৯৭১-এর বিজয়ের প্রতিশোধ নেওয়া।
- শেখ মুজিব কেন বাংলাদেশ স্বাধীন করলেন?
- শেখ হাসিনা কেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করলেন এবং দেশকে পাকিস্তানের তুলনায় বহুগুণ এগিয়ে নিলেন?
এই প্রশ্নগুলো এদের গোপন ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু। বাংলাদেশের অগ্রগতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় লালিত আধুনিক রূপ তাদের কাছে সহ্য হয় না।
 
২. সুবিধাভোগী উচ্চবিত্ত ও তথাকথিত প্রগতিশীল অভিজাত শ্রেণি
এরা অনেকেই বিদেশে বসবাসকারী, দ্বৈত নাগরিকত্বধারী এবং রাজনীতিতে সরাসরি অংশ না নিয়েও রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে অংশ নিতে আগ্রহী। গত দশকে শেখ হাসিনা যখন দেশি নেতৃত্ব, উদ্ভাবন ও জনগণকে প্রাধান্য দিয়েছেন, তখন এই গোষ্ঠী নিজেকে উপেক্ষিত মনে করেছে। ফলে এখন তারা বিদেশি সংস্থা, ডিপ স্টেট ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের সঙ্গে ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়াসে লিপ্ত।
 
২০২৪ সালের জুলাইতে যারা গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য অশ্রু বিসর্জন করেছিল, তারাই আজ নির্বাচনকে অপ্রয়োজনীয় বলে উড়িয়ে দিচ্ছে। বাস্তবতা হলো—তাদের জন্য “গণতন্ত্র” একটি মুখোশ, যেটি তারা পরে থাকে কৌশলগত সুবিধা পাওয়ার আশায়।
 
উদ্দেশ্য একটাই—বাংলাদেশকে দুর্বল করা, নিজের স্বার্থে বিক্রি করা এবং দেশকে এমন অবস্থায় নামিয়ে আনা যেখানে দেশপ্রেম নয়, বরং বেইমানির মূল্য বেশি। এরা চাইছে বাংলাদেশকে এমন কারও কাছে তুলে দিতে, যাকে তারা নিজেদের মতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে—যেমনটি হয়েছিল অতীতে অনেকবার।
 
এখন সময়, সত্যকে চিহ্নিত করার। মতপার্থক্য গণতন্ত্রে স্বাভাবিক, কিন্তু যারা রাষ্ট্রবিরোধী এজেন্ডা নিয়ে ছদ্মবেশে কাজ করে, তাদের চিনে রাখা জরুরি।
 
সৈয়দ ইউসুফ তাকি
মন্ট্রিয়ল, কানাডা
 
 
 
 
 

Facebook

Facebook

Facebook

Facebook

Facebook

Facebook

Facebook

Facebook

Facebook

Facebook

Facebook

 
 

রাজনীতি রাজনীতি রাজনীতি রাজনীতি রাজনীতি রাজনীতি

এই বিভাগের আরও খবর

"মানবিক করিডর" না "ভূমি দখলের রুট"?
"মানবিক করিডর" না "ভূমি দখলের রুট"?

"মানবিক করিডর" না "ভূমি দখলের রুট"?

২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহ: ভারতীয় সামরিক হস্তক্ষেপের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ
২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহ: ভারতীয় সামরিক হস্তক্ষেপের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ

২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহ: ভারতীয় সামরিক হস্তক্ষেপের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ

‘বেনজীর’ যাদের সৃষ্টি, তারা কি দায় এড়াতে পারেন
‘বেনজীর’ যাদের সৃষ্টি, তারা কি দায় এড়াতে পারেন

‘বেনজীর’ যাদের সৃষ্টি, তারা কি দায় এড়াতে পারেন

বাবা চলে যাবার আজ তিন বছর
বাবা চলে যাবার আজ তিন বছর

বাবা চলে যাবার আজ তিন বছর

তারুণ্যের অহংকার সৈয়দ মেহেদী রাসেল
তারুণ্যের অহংকার সৈয়দ মেহেদী রাসেল

তারুণ্যের অহংকার সৈয়দ মেহেদী রাসেল

রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি
রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি

রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি

ধনী-গরিবের বৈষম্য কমিয়ে আনা জরুরি
ধনী-গরিবের বৈষম্য কমিয়ে আনা জরুরি

ধনী-গরিবের বৈষম্য কমিয়ে আনা জরুরি

শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান
শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান

শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান

বাজারে ভোক্তাদের নাভিশ্বাস
বাজারে ভোক্তাদের নাভিশ্বাস

বাজারে ভোক্তাদের নাভিশ্বাস

close